
অনলাইন ডেস্ক :
শত কড়াকড়িতেও থেমে নেই অবৈধ পথে ইউরোপে অভিবাসনের প্রচেষ্টা। সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করেই গত দেড় বছরে ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন হাজারো মানুষ। গত দেড় বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছে ১৯ হাজার বাংলাদেশি। তাদের মধ্য অপহরণ-নির্যাতন ও পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে ৬০০ জনের।
পুলিশ বলছে, সারা দেশে মানবপাচারে সক্রিয় অন্তত ১০টি চক্র। আর এর হোতারা আছেন লিবিয়া। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, সরকার বৈধ পথে ইউরোপে লোক পাঠাতে কাজ করছে। জীবন বদলের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই ইউরোপে ঢোকার চেষ্ঠা করছে বাংলাদেশিরা। আর এই যাত্রা দালালের হাত ধরে। তাদের কেউ সফল হলেও অনেকেই সামিল হচ্ছেন মৃত্যুর মিছিলে। সম্প্রতি একাধিক মামলায় পুলিশ তদন্তে নামলে গ্রেপ্তার হয় ৬ দালাল। তাদের তথ্যেই মেলে শরিয়তপুর, মাদারিপুর, ফরিদপুর, সিলেটসহ ১০ জেলায় ১০ চক্রের সন্ধান। তাদের মুলহোতারা আছেন লিবিয়ায়। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। ডিএমপির সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দালালদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছে তাদের বিস্তারিত তথ্য আমরা সংগ্রহ করবো। এরপর আমরা এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা করব। এছাড়াও ব্র্যাকের হিসাবে, দেড় বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছে ১৯ হাজার বাংলাদেশি, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬০০ জনের। এ অবস্থায় এসেছে বৈধভাবে ইউরোপে জনবল পাঠানোর তাগিদ। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রশিক্ষণ না জেনে বিদেশ পাঠানোর চেয়ে আমরা যদি বৈধ উপায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে জনবল ইউরোপে পাঠাতে পারি তাহলে হয়তো এই অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।
