
অনলাইন ডেস্ক :
কিম জং উন খাচ্ছেন হাঙ্গরের মাংসে!
কিম জং উন কে সারা বিশ্বে সবাই পাগলাটে নেতা হিসেবেই জানেন। তার বেলায় স্বৈরাচারী শাসক এবং অত্যাচারী রাজা বললেও ভুল বলা হবে না। উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উন ই হল প্রথম কথা আর শেষ কথা। তার যখন যা মনে হয় তখন সে সেটাই করে। জানা গেছে এখন নাকি কিম জং মজে আছেন হাঙ্গরের মাংস, রাশিয়ান ভদকা এবং ব্রাজিলের কফিতে। আর ঠিক এসময়ে এসে তার দেশের জনগণ দুবেলা দুমুঠো খেতে পারছেন না। এটিকে সিউলের কর্মকর্তা এক বৈঠককে কার্যত ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতি মেনে নেওয়ার সমতুল্য বলে দাবি করছেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ৩৮ নর্থ প্রোগ্রাম নামের নিরীক্ষা সংস্থা জানায়, উত্তর কোরিয়ায় খাদ্য সরবরাহ দেশের জনগণের ন্যুনতম চাহিদার চেয়েও কমে গেছে। সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নব্বইয়ের দশকের দুর্ভিক্ষ এর চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য ঘাটতির পেছনে আসল কারণ বৈরি আবহাওয়ার মাঝে শস্যের ফলন আশানরূপ না হওয়া।
অথচ কিম জং উন এর দেশের সাধারণ মানুষ দু’বেলা খেতে পাচ্ছে না।
লকডাউন ও করোনাভাইরাসের কারণে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হয়ে বাণিজ্য কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এছাড়াও, নিষিদ্ধ ঘোষিত পারমাণবিক ও ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উত্তর কোরিয়া ব্রাত্য। গেল বছর দেশটির শস্য উৎপাদনের প্রাক্কলিত পরিমাণ ছিল পয়তাল্লিশ লাখ টন।
এটি ২০২০ এর চেয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য মতে, উত্তর কোরিয়া ২০১২ থেকে ২০২১ এর মাঝে প্রতি বছর গড়ে ৪৪ লাখ থেকে ৪৮ লাখ টন শস্য উৎপাদন করে। দেশের দুই কোটি ৫০ লাখ জনগোষ্ঠীর খাবারের জোগান দিতে উত্তর কোরিয়ার বৈশ্বিক খাদ্য চাহিদা ৫৫ লাখ টন শস্য। বর্তমান বছরে প্রায় ১০ লাখ টনের ঘাটতি রয়েছে।
এর আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে চিন থেকে শস্য আমদানি করে এই ঘটতির অর্ধেক মিটিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম অবশ্য জানিয়েছেন দেশের মানুষের এই কষ্ট তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি আশাবাদী তার সরকার আগামী ছয় মাসে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। কিন্তু সেটা কথার কথা নাকি সত্যিই তিনি দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন উত্তর দেবে সময়। আপাতত নিজের রাজকীয় লাইফস্টাইল নিয়েই ব্যস্ত কিম। তাকে আটকানোর কে আছে? কারণ যে তিনি বেতাজ বাদশা।
