আর্জেন্টিনা দলে নেই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়, জানুন বেদনাদায়ক ইতিহাস

আর্জেন্টিনা দলে নেই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়, জানুন বেদনাদায়ক ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক :

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে মেসিরা। আর এই আনন্দে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে উদযাপন করেছে লাখ লাখ নাগরিক। সেখানে যোগ দেন বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড়রা।। তবে এই সমস্ত বিষয়কে ছাড়িয়ে এখন আলোচনা চলছে ভিন্ন এক বিষয়ে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলোর বেশিরভাগ দলেই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় চোখে পড়ে। তবে আর্জেন্টিনায় কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার এখন আর চোখে পড়ে না। এর পেছনে অবশ্য লুকিয়ে রয়েছে বেশ বেদনাদায়ক এক কাহিনী। খবর জ্যামাইকা গ্লেনার।

এক জরিপে দেখা যায়, আর্জেন্টিনায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ ব্যক্তির দেহে আফ্রিকান জিন রয়েছে। ২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় কালো মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম। একটা সময় আর্জেন্টিনার জনসংখ্যার বেশ বড় অংশ ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। কিন্তু যুদ্ধ আর মহামারির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক ইতিহাস আর্জেন্টিনা থেকে নির্মূল করে কৃষ্ণাঙ্গদের। তার প্রভাব পড়ে খেলাধুলায়।

ইতিহাস বলছে, রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে থেকে এক হাজার কিলোমিটার উত্তরের শহর করিয়েন্তেস-এ দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস। বর্তমানে সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের চিহ্নও নাই। মুছে দেয়া হয়েছে সব। ইতিহাসবিদ ফেলিপে পিগনার তথ্যমতে, আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কৃষ্ণাঙ্গদের জোর করে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করিয়ে দেয়া হতো। আর সবার আগে তাদেরকেই সামনে রাখা হতো ফলে যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ মারা যায়। একই ধারা চলতে থাকে গৃহযুদ্ধের সময়। এছাড়াও মহামারির কারণে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী আরও কমে আসে।

নারী-পুরুষের অনুপাতের ব্যবধান বেড়ে যায় অনেক। এদের অনেকে আবার প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, বলিভিয়াতেও পাঠিয়ে দেয়া হয় অনেক দাসকে। এছাড়াও আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের জন্মহারও ছিল তুলনামূলক কম। দাসমালিকরা তাদের দাস-দাসিদের বিয়ে করতে অথবা বাচ্চা নিতে দিত না। কারণ গর্ভবতী হয়ে পড়লে নারীরা কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া আর্জেন্টিনার সাদা নেতারাও কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দিতে কাজ করে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *