অনলাইন ডেস্ক :
জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক সংকটকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বের প্রতি কোণে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, ২০২৩ সাল নাগাদ পৃথিবীতে প্রতি ২৩ জনের মধ্যে একজনের মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হবে। অনেক দেশে শুরু হবে দুর্ভিক্ষ। আর এর অন্যতম কারণ অর্থমন্দা।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ওভারভিউতে (জিএইচও) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার ত্রাণ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বৈশ্বিক ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। তার উপস্থাপিত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে বিশ্বে ত্রাণ সহায়তা দরকার হয়েছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আগামী বছরের শুরুতেই এই সংখ্যা ৩৩ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ তার দাতাগোষ্ঠীকে ৫ হাজার ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা দিতে আহ্বান জানিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এই তহবিল ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির পরও জাতিসংঘকে এমন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
সংস্থাগুলো বলছে, দাতারা উদারভাবে সাহায্য করলেও চাহিদা অনেক বেশি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনের মতো অনেক দেশে খাদ্য সংকট চলছে। এতে ওই দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বব্যাপী। আর জলবায়ু সংকটে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে ওঠা দেশটির একার পক্ষে সম্ভব নয়। জিএইচওতে বক্তব্যে গ্রিফিথ বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, ২০২৩ সালে বহু মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভর করবে। প্রতি ২৩ জনের মধ্যে একজন এটা ছাড়া অভুক্ত থাকবেন। এই সংখ্যা খুবই হতাশাজনক।’
অনলাইন প্রিন্ট ভার্সন
Copyright By Dowa Media Group Limited