
অনলাইন ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা নিউক্লিয়ার ফিউশান পরীক্ষায় বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় গতকাল (মঙ্গলবার) এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, এ সাফল্য ভবিষ্যতে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন শক্তি বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করবে। দেশটির জ্বালানি বিষয়ক কর্মকর্তারা বলছেন, নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণায় ‘ইতিহাস সৃষ্টি’ হয়েছে। গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথমবারে মতো লেজার পদ্ধতির চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
উৎপাদিত বিদ্যুৎকে ‘নেট এনার্জি গেইন’ বলা হচ্ছে যা পরমাণুর ফিউশন পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব ও অপরিমেয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে, মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর গবেষকরা লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘ন্যাশনাল ইগনিশন এক্সপেরিমেন্ট ফ্যাসিলিটি’-তে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পারমাণবিক ফিউশন পরীক্ষা পরিচালনা করেন। তবে, আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব করতে, আরও উন্নত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লাইভমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটিতে বিজ্ঞানীরা সফলভাবে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। এতে যে পরিমাণ বিদ্যৎ ব্যবহার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মাত্রায় বিদ্যুৎ তৈরি সম্ভব হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় ২.০৫ মেগাজুল বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। যা বিক্রিয়ার মাধ্যমে ৩.১৫ মেগাজুল ফিউশন বিদ্যুৎ তৈরি করে। ফলে যতটুকু বিদ্যুৎ রাখা হয়েছিল তার থেকে ৫০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এই পরীক্ষাকে ‘পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ভবিষ্যতের জন্য একটি ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের গবেষণা সফল হয়ে থাকলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার একটি নতুন পথ খুলতে যাচ্ছে বলে গবেষকরা আশাবাদী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা জয়েন্ট ইউরোপিয়ান টোরাস (জেইটি) ল্যাবরেটরির গবেষকরা এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটপ ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়ার খবর দেন। জেইটি ল্যাবের গবেষকরা তাদের গবেষণায় ৫ সেকেন্ডে ৫৯ মেগাজুল (১১ মেগাওয়াট) শক্তি তৈরি করতে পেরেছিলেন, যা ১৯৯৭ সালে তাদের একই ধরনের গবেষণায় উৎপাদিত শক্তির দ্বিগুণেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা যে প্রক্রিয়ায় কাজটি করেছেন, তাকে বলা হয় থার্মোনিউক্লিয়ার ইনারশিয়াল ফিউশন। তারা লেজারের মাধ্যমে নিউট্রনের গায়ে আইসোটপ ছুড়ে দিয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, যার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে তাপ।
