
অনলাইন ডেস্ক :
‘আরব-চায়না বিজনেস কনফারেন্স’-এর প্রথম দিনেই ৩০টি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির অধীনে মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ হবে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, কৃষি, রিয়াল স্টেট, মিনারেল, পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাতে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দুই দিন ধরে চলবে এই কনফারেন্স। এর প্রথম দিনেই এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ চুক্তির ঘোষণা এলো। আরব নিউজের খবরে জানানো হয়েছে, চীনা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে গবেষণা, উন্নয়ন, উৎপাদন, পর্যটন এবং আরও বেশ কিছু খাতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব সরকার। দেশটির বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন-সালমান বলেছেন, আমি পশ্চিমা দুনিয়ার সমালোচনা উপেক্ষা করেছি। আমরা যেখানে সুবিধা পাব, যেখানে সুবিধাজনক ডিল পাব, সেখানেই যাব। চীনে তেলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তার কিছুটা সৌদি আরব পূরণ করছে।
চীন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, চীন আমাদের সহযোগী দেশ। আমরা সহযোগিতার ভিত্তিতে এগোচ্ছি। রিয়াদের সম্মেলনে চীন থেকে প্রচুর বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতি গিয়েছেন। গত মার্চে সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা সৌদি আরামকো চীনের সঙ্গে দুইটি বড় বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করেছে। সৌদির জ্বালানীমন্ত্রী খালিদ আল ফলিহ বলেছেন, চীনের সঙ্গে আরব দুনিয়ার প্রতিটি চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তেলের বাইরে অন্য শিল্পের ক্ষেত্রে যে সব বিনিয়োগ চুক্তি হবে, তা আরব দুনিয়ার চেহারা বদলে দিতে পারে। সম্মেলন শেষ হলে দুই দিনে চুক্তির মোট পরিমাণ জানানো হবে।
কয়েক দিন আগেই সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তার ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল সৌদি আরবকে বুঝানো যে, চীন-রাশিয়া ব্লকের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি প্রয়োজন সৌদি আরবের। তবে এর ক’দিনের মাথায়ই এই বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজিত হলো। সৌদি প্রিন্স ও মন্ত্রী আব্দুল আজিজ বলেন, সৌদি আরব ও চীনের মধ্যে বেশ মিল রয়েছে। চীন যখন তার বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সৌদি আরব তার ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়ন করছে।
দুই দিনের এই সম্মেলন আয়োজন করে সৌদি আরবের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়। এতে যোগ দেন ২৬ দেশ থেকে আসা ৩৫০০ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করতে সৌদি আরব সম্মেলনে সিল্ক রোডকে আবারও ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদির বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ জানান, তার দেশ আরব দুনিয়ায় চীনের প্রবেশের দরজা হতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ নিজেদের ব্যবসা বড় করতে আগ্রহী। ২০২২ সালে চীন ও আরব দেশগুলোর মধ্যে মোট ৪৩২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর ২৫ শতাংশই হয় এক সৌদি আরবের সাথে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সৌদি-চীন বাণিজ্য ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১০৬ বিলিয়ন ডলারে।
