
অনলাইন ডেস্ক :
প্রাণঘাতী রোগ ক্যানসারের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে ডাকাতিতে নাম লিখিয়েছেন এক ব্যক্তি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তিনি। এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের চব্বিশ পরগনা জেলার নরেন্দ্রপুরে।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরেন্দ্রপুরের মিশনপল্লির একটি বাড়িতে এক বৃদ্ধকে হাত এবং মুখ বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃদ্ধের গাড়িচালকসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে মিশনপল্লি এলাকার বাসিন্দা বৃন্দাবন সিংহের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই ডাকাতির ঘটনার মূলহোতা স্বর্ণদ্বীপ ভট্টাচার্য। তিনি বৃন্দাবনের গাড়িচালক। গত ১০ বছর ধরে বৃদ্ধের গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি। স্বর্ণদীপ সোনারপুর এলাকার বাসিন্দা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালানোর সূত্রে বৃন্দাবনের অতি নিকটজন হয়ে উঠেছিলেন স্বর্ণদীপ। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকেও বৃন্দাবনের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কোনও বিপদে বা আর্থিক সমস্যায় পড়লে স্বর্ণদীপ সাহায্য চাইতেন বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। স্বর্ণদীপের আইনজীবীর দাবি, তিনি কিছু দিন আগে ক্যানসার আক্রান্ত হন। তাকে কেমোও নিতে হচ্ছে। সেই কারণে টাকার প্রয়োজন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন স্বর্ণদীপ। তাই বৃন্দাবনের থেকে তিনি টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি হননি ওই বৃদ্ধ।
সম্প্রতি বাড়িতে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন বৃন্দাবন। ফলে রাজমিস্ত্রির পাওনা মেটানোর জন্য কিছু টাকা বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। আর এই টাকার বিষয়ে জানতেন তার গাড়িচালক স্বর্ণদ্বীপ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, স্বর্ণদীপ তার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ওই ঘটনায় স্বর্ণদ্বীপ ছাড়া আরও তিনজন জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে স্বর্ণদীপ ছাড়াও নাজমুল হোসেন শেখ নামে আরও একজনকে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
