
একে রাসেল | অনলাইন ডেস্ক |
চলচ্চিত্রবান্ধব জনপ্রিয় সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরকে পরিচালক সমিতি কর্তৃক সমিতির আঙ্গিনায় নিষিদ্ধ করায় যখন গণমাধ্যমকর্মীদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত হয়ে দাবি করেন- ‘আহমেদ তেপান্তর কোনো সাংবাদিকই নন, তাকে আমি চিনি না’।
তার এমন কথায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়ায় সমিতির সাবেক সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, আহমেদ তেপান্তর একজন প্রকৃত সাংবাদিক এবং সবার সাথেই ভাল সম্পর্ক। তাছাড়া ব্যক্তি হিসেবে সে ভাল একজন মানুষ। মানুষের বিপদে আপদে তেপান্তর সবার আগে এগিয়ে থাকে। সামান্য একটা বিষয়কে এতদূর নিয়ে যাবে কেন? এটা সে অনেক আগেই মিলিয়ে দিতে পারত। সেই ক্ষমতাটাই তার নেই। তাহলে সে কেমন সভাপতি?। পরিচালক সমিতির সভাপতির কার্যক্রম যদি এমন হয় তবে ইন্ডাষ্ট্রি টিকবে কিভাবে? আর সংগঠনের সভাপতি কাজী হায়াৎ যা করেছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমি যা শুনেছি তাতে এটা শিওর সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তর ভালো কাজ করতে গিয়ে সেটিই তার জন্য কাল হল। আমরা বলতাম, আগে আওলাদ কিন্তু সবার বিপদে এগিয়ে আসত। সবার মনে মনে ছিল আওলাদ। প্রতিটা লোকের বিপদে আপদে আওলাদকে পাশে পাওয়া যেত। সেই আওলাদের জায়গাটা পরে তেপান্তরের মধ্যে ফুটে উঠেছে।
গুণী পরিচালক এফ আই মানিক বলেন, তেপান্তর একজন প্রকৃত সাংবাদিক। ইন্ডাস্ট্রির ভালো মানুষগুলোর সাথে তেপান্তরের সুসম্পর্ক। আর তেপান্তর যা করে সেটা প্রোপারলি করে। সাংবাদিকতা মহান পেশা, আর সেই জায়গায় থেকে তেপান্তর সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। আর তেপান্তর অহেতুক কোন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আর এব্যাপারে কাজী হায়াৎ ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়নি আর শাহীন সুমনের সাথে কথা বলার প্রশ্নই আসেনা। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয়। আমি মনে করি সমস্যা যেটায় হোক সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। কমিউনিটিতে তার একটা অবস্থান আছে। তেপান্তরের সাথে যা হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। যাই হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। তারপরও তাকে বুঝিয়ে বললে আশা করি সমাধান সম্ভব। সে উদ্যোগ নিন।
পরিচালক খিজির হায়াত খান বলেন, তেপান্তর ভাই একজন সিনেমপ্রেমী সাংবাদিক তিনি এবং অত্যন্ত ভালো লিখেন। তার সাথে যা হয়েছে এটা আসলে উচিৎ হয়নি। শাহীন ভাই ও তেপান্তর ভাইয়ের সাথে ক্যাজুয়াল সম্পর্ক। তো সে জায়গা থেকে বিষয়টা এতদূর না গড়ানোয় ভাল ছিল। বিষয়টিকে আর না বাড়িয়ে দুপক্ষ বসে একটা সুষ্ঠ সমাধান করা উচিৎ।
সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরকে চেনেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরকে আমি চিনি। তাকে না চেনার কোন কারণ নেই।
পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব বদিউল আলম খোকনের বলেন, আহমেদ তেপান্তরের উদ্যোগেই প্রদর্শক সমিতি ও পরিচালক সমিতির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটে। সো তাকে না চেনার কিছু নেই। এখন কাজী হায়াৎ ভাই কেন একথা বললেন সেটা আমি বলতে পারবোনা। একজন নেতৃত্ব পর্যায়ের চলচ্চিত্রবান্ধব সাংবাদিক হিসেবে পরিচালক সমিতির সভাপতি হিসেবে তাকে না চেনাটা আমাকে অবাক করেছে।
প্রদর্শক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দিন এলাহী সম্রাট প্রতিক্রিয়ায় বলেন- দায়িত্বশীল চেয়ারে বসে হায়াৎ সাহেবের এমন কথা পাগলের প্রলাপের মতোই। আমি স্পষ্ট বলতে পারি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমিতির মধ্যে সমন্বয় সাধনসহ ধ্বসে পড়া চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী অতীত পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি এই শিল্পের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে গত কয়েক বছর তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় নৃত্যপরিচালক সাইফুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন- কাজী হায়াৎ আমাদের বটবৃক্ষ। আর শাহীন সুমনও ভালো মনের মানুষ। আর সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তর সরল মনের বলে সবার সঙ্গে ক্যাজুয়াল সম্পর্ক তার। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।
এদিকে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে আহমেদ তেপান্তরের উপর জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি কাজী হায়াৎ-শাহীন সুমনদের নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে দেশের সকল সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারী দিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। অপরদিকে গুণী নির্মাতা মালেক আফসারী ফেসবুকে লিখেন- ‘সাংবাদিকদের সাথে সমিতির দূরত্ব বাড়ছে। কয়েক যুগের এই সম্পর্ক। বন্ধুত্ব ধরে রাখুন নইলে বদনাম হবে।’
এ ব্যাপারে আহমেদ তেপান্তর বলেন- আমি যতদূর জানি হায়াৎ ভাই একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি। তাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি সরল মনের তাকে যেভাবে বোঝানো হয়েছে তিনি সেভাবেই বলেছেন। তবে শাহীন সুমনের ব্যাপারে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান।
প্রসঙ্গত, সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরকে পরিচালক সমিতির আঙিনায় নিষিদ্ধের ঘোষণার পূর্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আহমেদ তেপান্তরের সাথে কথা হয়েছিল কিনা আপনাদের এমন প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন- তেপান্তর আসলে কোন পত্রিকায় কাজ করে? আমরা যতদূর জানি সে কোন পত্রিকাতে কাজ করেনা। আমার সাথে তার কোন কথা হয়নি। শাহীনই কথা বলেছে। আমি তাকে চিনিওনা, জানিওনা।
