
কিশোরগঞ্জ ভৈরব অনলাইন ডেস্ক :
ইদানীং লক্ষ্য করলে দেখা যায় দেশের অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি নির্বাচনগুলোতে বেশ অবদান রাখছে। দেশের নির্বাচনের গন্ডি পেরিয়ে ভারতেও অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার এক্টিভিটিস গুলো জনগণের পাশাপাশি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। যেমন ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে ধ্রুব রাঠি নামের এক ইউটিউবার ইনফ্লুয়েন্সার। ফলে ভারতের লোকসভার নির্বাচনের ফলাফলের দিকে খেয়াল করলে সেটার প্রভাব অনেকটায় স্পষ্ট। আমাদের দেশের জাতীয় নির্বাচনেও অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। ফলে সিলেটের ব্যারিস্টার সুমন একজন অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করেন। এতে করে বুঝায় যায় দিনে দিনে অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াগুলো কতটা প্রভাব ফেলছে নির্বাচনগুলোতে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সামাজিক সাংগঠনিক কাজেও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ৫ জুন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের আগের দিনও ভৈরব উপজেলার অধিকাংশ ভোটাররা ছিলেন নিশ্চুপ। ফলে সবার মাঝেই এক প্রকার সংশয় ছিল কে হবেন নির্বাচনে জয়ী। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কে জয়ী হবেন তা নিয়ে ছিল অনেকটায় ধোয়াশা। কিন্তু অনলাইন এক্টিভিটিসদের মাধ্যমে ভৈরব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কে জয়ী হবেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে কে জয়ী হবেন তা আগে থেকেই অনেকটা ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। যদিও ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) কে হবেন সেটা অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তেমন একটা ধারণা পাওয়া যায়নি।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানা যায়, ভৈরব উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের আগ মহুর্ত পর্যন্ত দুবাই প্রবাসী মেহেদী হাসান (সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার) ও পর্তুগাল প্রবাসী সুহাইল খান (সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার) এই দুজনই অনলাইনে ছিলেন কাপ-পিরিজ মার্কার সমর্থনে বেশ সরব এবং জয়ের ব্যাপারে তাদের দুজনকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা গিয়েছিল। এর পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম সবুজের পরিকল্পনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনলাইন ভিডিও বার্তায় কাপ-পিরিজ মার্কার মার্কেটিং আরও একধাপ এগিয়ে যায়। এছাড়া ভৈরব উপজেলার ইউনিয়নের ও পৌর শহরের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীদের অনেকেই অনলাইনে ছিলেন বেশ সরব। ফলে ভারতের লোকসভা নির্বাচন কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মত কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াগুলো বেশ প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা পদে কে জয়ী হবেন তা বিভিন্ন জনের অনলাইন এক্টিভিটিতে প্রকাশ পায়। বিশেষ করে ফুটবল মার্কা অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে সবার মন কেড়ে নেন। এই অভিনব কৌশলে কলস ও হাঁস মার্কাকে পেছনে ফেলেন ফুটবল। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে উড়োজাহাজ নাকি মাইক জয়ী হবেন তা অনলাইন এক্টিভিটিতে বুঝা যায়নি। কিন্তু এই দুই মার্কার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেটা অনলাইনের মাধ্যমেই টের পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবারের ভৈরব উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের দিন ভোটাররা ছিলেন বেশ নিরব ও নিশ্চুপ। সুনশান নিরবতায় শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ভৈরব উপজেলা পরিষদ ২০২৪ ইং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবুল মনসুর (মার্কা- কাপ পিরিজ) বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোশাররফ হোসেন (মার্কা- মাইক) বিজয়ী হয়েছেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সানজিদা ইয়াসমিন (মার্কা- ফুটবল) বিজয়ী হয়েছেন।
